ব্রেকিং নিউজ >>>
ঢাকা, জানুয়ারী ২৩, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫
ICT News | Online Newspaper of Bangladesh |
প্রথম পাতা » আইসিটি সংবাদ » শুরু হল দেশের প্র্রথম বিপিও সামিট
বুধবার ● ৯ ডিসেম্বর ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this News Print Friendly Version

শুরু হল দেশের প্র্রথম বিপিও সামিট

আইসিটি নিউজ প্রতিবেদক

---

২০২১ সালের মধ্যে বিপিও সেক্টর থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা, দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশী বিপিও সেক্টর সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেওয়া, বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে সাফল্যের গল্পগুলো বিশ্ববাসীকে জানানো এবং দেশের তরুণ সমাজের কাছে এই সেক্টরকে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের বিপিও খাতকে এগিয়ে নিতে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে গত ৯ জানুয়ারী রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে শুরু হলো প্রথম ‘বিপিও সামিট ২০১৫’। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিপিও সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার। ২০০৯ সালে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের আয় ছিলো মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। ৬ বছরের মধ্যে এই খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিপিও সেক্টরে ২৫ হাজার লোক কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই খাতে ২ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। তরুনদের তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা) এর  সভাপতি সান্তিয়াগো গুতিয়ারেজ বলেন, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক ভালো করছে। বাংলাদেশের বিপিও খাতসহ তথ্যপ্রযুক্তির সার্বিক বিকাশে উইটসা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২১ বছর উইটাসার সম্মেলন বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আইসিটি ব্যবসা এখানে খুবই গতিশীল। সরকারও এই খাত নিয়ে উৎসাহী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি জগতে নেতৃস্থানীয় জায়গায় যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কানেক্টিভিটিতে, এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিষয়টির আরও উন্নতি করতে হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সরকার আইসিটি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। আমরা আমাদের পাশের দেশ ভারতের তুলনায় এখনও প্রযুক্তি খাতে বেশ পিছিয়ে আছি। এই সেক্টরে আরও ভালো করতে হলে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। তাহলে ২০২১ সালের আগেই দেশ ডিজিটাল হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্যে তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে  তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে কয়েক হাজার প্রোগ্রামার তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, বাক্যের সভাপতি আহমাদুল হক।

সম্মেলনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতনামা ৪০ জনেরও বেশি বক্তাগণ বিভিন্ন সেশনে স্পিকার হিসাবে থাকবেন। স্পিকারদের মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকউন্টস এর সিইও ফায়েজুল চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমেদ, অস্ট্রেলিয়ান বিপিও অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন এন কনবয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশনের (অ্যাসোসিও) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই) প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইনফোসিস এর এমডি ও সিইও ড. বিশাল সিক্কা, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, মাইক্রোসফটের এমডি এবং টাই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোনিয়া বশির কবির, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ও টেকনোলজি ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ, ডাটাবেইজ মার্কেটিং এবং কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট সলিউশন বিশেষজ্ঞ রাজমোহন ভি, বিনোদ হ্যামপাপুর র‌্যাঙ্গাদোর, শ্রী দয়া খালসা। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় খাতের সেক্টরের অনেক বিশেষজ্ঞগণও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল অ্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস, এন্টারপ্রেইনারশিপ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বিপিও ইন্ডাস্ট্রি, কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ: নারচারিং দ্যা ফিউচার, ফিউচার চ্যালেঞ্জেস অফ আইসিটি ডেভেলপমেন্ট এন্ড ট্রান্সফরমেশন অফ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি, দ্যা অপরচুনেটিজ অফ আউটসোর্সিং ক্লায়েন্ট সার্ভিসেস ফ্রম আইটি পার্সপেক্টিভ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ ইয়ুথ টু ড্রাইভ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি, গ্লোবাল বিপিও ইন্ডাস্ট্রি বেস্ট প্রাক্টিসেস, দ্যা অপরচুনেটিজ ইন দ্যা ডোমেস্টিক মার্কেট ফর আউটসোর্সিং, অপরচুনেটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ব্যাংকিং আউটসোর্সিং, রাল অব হায়ার এডুকেশন ইন্সিটিউশনস ফর বিপিও ইন্ডাস্ট্রি এবং কানেক্টিং উইথ আনট্যাপড স্কিলস: পলিটেকটিক, ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল শীর্ষক সেমিনার অুনষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে আছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসাবে আছে এডিএন গ্রুপ, জিনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিসকো সিস্টেমস, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টেলিটক, এয়ারটেল এবং আইটি পার্টনার আমরা কোম্পানীজ ও নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার এট হোম।

দেশের প্রথম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।

আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.bposummit.org.bd


Interview of Paul Wilson, the Director General of Asia Pacific Network Information Centre (APNIC)

শেষ হলো জমজমাট বিপিও সামিট ২০১৫


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
কার্ডে ঈদের কেনাকাটায় ব্যাংকের ছাড়
এসপি বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে নিয়ে গেছে পুলিশ
পৌর নির্বাচন নিয়ে মোবাইল অ্যাপ
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির উদ্যোগে সাড়া মেলেনি