রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » আইসিটি সংবাদ » বেসিসের ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
বেসিসের ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার বৃদ্ধি, যোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৭২৫ জন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক ভোটার তালিকায় জেনারেল ক্যাটাগরিতে ৪৩১ জন, এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ৯৬ জন, এফিলিয়েট ক্যাটাগরিতে ৮৪ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে ৪ জনকে বৈধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ মোট ৬১৫ জনকে ভোটার হিসেবে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১১০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, জেনারেল ক্যাটাগরিতে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৬ জনে, এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ১৯২ জন, এফিলিয়েট ক্যাটাগরিতে ১১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে ৫ জন। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৫ জনে।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, আবেদনকারী ছিলেন ৭২৫ জন, অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ৯৩৫ জন হলো কীভাবে? অতিরিক্ত এই ২১০ জন কারা, তারা কোথা থেকে এলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় ভোটার হলো, তা নিয়ে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের অনুমোদন বা পূর্বযোগ্যতা যাচাই ছাড়াই অনেক ভোটারকে ভোটার তালিকা প্রকাশের কয়েকদিন আগে স্ব^য়ংক্রিয়ভাবে এসোসিয়েট ক্যাটাগরি থেকে জেনারেল ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
একাধিক সদস্যের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটার হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতাই পূরণ করে না। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে ব্যবসায় সক্রিয় নন বলেও দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তির একটি অংশ সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং জুলাই আন্দোলনের সময় তাদের অবস্থানও ছিল বিতর্কিত।
অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রূপম রাজ্জাক এবং তার সহযোগীদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক ভোটার তালিকায় রাখা হয়নি। পরে আপিল করা হলেও চূড়ান্ত তালিকাতেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাদের ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ী শোহিবুর রহমান খান রানা। তার দাবি, প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রতিষ্ঠানের নামও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পায়নি।
সংগঠনটির সদস্যদের একাংশ অভিযোগ করছেন, পতিত স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীদের আবার বেসিসের নিয়ন্ত্রনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা সাজানো হয়েছে।
আরেকটি বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, বেসিসের প্রশাসক নির্বাচনকালীন সময়ে ৬ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত হজ্ব পালনের জন্য ছুটিতে থাকবেন। অথচ প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৭ মে এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৭ জুন। নির্বাচন পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রশাসকের অনুপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। অনেকের আশঙ্কা, এই সুযোগে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো আরও সহজে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
শুক্রবার ছুটির দিনে রাতের বেলা ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জনসমালোচনা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এড়াতেই কৌশলগতভাবে এই সময় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যবসায়ী নিজেকে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রীর সহপাঠী পরিচয় দিয়ে নেপথ্যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের পছন্দের প্যানেলকে নির্বাচনে জয়ী করতেই ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে কলকাঠি নাড়ছেন।
ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ফোরামে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বেসিসের সদস্যরা। তাদের অনেকেই বলছেন, একটি পেশাদার ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অনিয়ম তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে।
সদস্যরা বলছেন, সঠিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা না হলে, এই নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হবে না। এ পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই, বিতর্কিত ভোটারদের তদন্তের আওতায় আনা এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত তথ্য সামনে আসে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষা পায়।





বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিট ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন দুই তরুণ
বিভিন্ন খাতের সহযোগিতায় সাইবার সক্ষমতা বাড়াতে ফিনিক্স সামিট ২০২৬
৪০ বছর পূর্তিতে এআই ও গেমিং পণ্যের বড় প্রদর্শনী গিগাবাইটের
বিএসআইএ এর ইউএস রোডশো শুরু
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এআই হ্যাকাথনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন
সহজ কিস্তি ও বান্ডল অফারে দুটি স্মার্টফোন আনল বাংলালিংকের টেকভ্যান
প্রযুক্তি ব্যবহারে এমএফএস এর অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রতিরোধে ৩ জেলায় পুলিশ-বিকাশ কর্মশালা
আইটেলের ফিচার ফোনে ১৮০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি ঘোষণা
বাজারে লেনোভো এআই গেমিং ল্যাপটপ
রবি এলিট প্রোগ্রামে আরও ১৬ ব্র্যান্ড, মিলবে ৫২% পর্যন্ত ছাড়