ব্রেকিং নিউজ >>>
ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭, ২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৪
ICT News | Online Newspaper of Bangladesh |
প্রথম পাতা » আইসিটি পড়াশোনা » খুদে প্রোগ্রামারদের মিলনমেলা
সোমবার ● ২৮ মার্চ ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this News Print Friendly Version

খুদে প্রোগ্রামারদের মিলনমেলা

---

৷৷ মুনির হাসান ৷৷

নিজেদের প্রোগ্রামিং দক্ষতার যাচাই করতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় l ছবি: সংগৃহীতষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (এনএইচএসপিসি) ২০১৬-এর আঞ্চলিক উৎসবগুলো হয়ে উঠেছে খুদে প্রোগ্রামারদের মিলনমেলা। নিজেদের প্রোগ্রামিং দক্ষতার যাচাই যেমন হচ্ছে তেমনি তারা তৈরি করছে নতুন নতুন বন্ধু, জেনে যাচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল। চলতি বছর এনএইচএসপিসির দ্বিতীয় আয়োজনে ১৬টি আঞ্চলিক আয়োজনের মধ্যে নয়টির প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। এগুলো হলো কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, সিলেট ও রংপুর। বাকি আছে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, পাবনা ও যশোরের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা। আগামী ১৬ এপ্রিল ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি এতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) কুইজ প্রতিযোগিতাও থাকছে।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। সংগঠনের সহসভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল জানান, ছোটবেলা থেকে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ থাকা এবং এর মূল ব্যাপারগুলো ধরে ফেলতে পারলে পরবর্তী সময়ে তাদের পক্ষে প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করা সম্ভব।
প্রোগ্রামারদের কলকাকলি
খুদে প্রোগ্রামাররা বেশ আগ্রহ নিয়ে অংশ নিচ্ছে প্রতিযোগিতায়। গত বছরের চেয়ে এবার অংশগ্রহণও বেড়েছে। কয়েকজন প্রতিযোগী বলেছেন তাদের কথা।
রুহান হাবিব
নবম শ্রেণি, রিজেন্ট এডুকেয়ার, ঢাকা
রুহানের ইন্টারনেটে হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকে। বছর তিনেক আগে ইন্টারনেটে ঘুরতে ঘুরতে প্রোগ্রামিংয়ের খোঁজ পাওয়া। সেই থেকে প্রোগ্রামিংয়ের আনন্দ উপভোগ করছে সে। শুরু করেছিল খান একাডেমিতে জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে। এরপর ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজে নিজেই সি++ শিখেছে। যেকোনো প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানের সময় শুরুতে এর অ্যালগরিদমটা নিয়ে সে ভাবে, এরপর দেখে এর কমপ্লেক্সিটি। তারপর অনলাইন জাজিং প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রোগ্রাম যাচাই করা। codeforces.com, spoj.com ইত্যাদি ওয়েবসাইটে যাচাইয়ের কাজটা করে সে। ভবিষ্যতে পদার্থ বা কম্পিউটারবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে তার।

---

সমাপ্তি শিকদার
নবম শ্রেণি, চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল, চট্টগ্রাম
অন্যদের সঙ্গে সমাপ্তির শুরুর অনেক পার্থক্য। কারণ, সমাপ্তি ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে সারা বিশ্বের হাইস্কুলের মেয়েদের মধ্যে সেরা এবং বর্তমানে এমআইটির শিক্ষার্থী বৃষ্টি শিকদারের ছোট বোন। বোনের কাছ থেকেই সে মূল বিষয়গুলো শিখেছে। এর পাশাপাশি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের বাংলা বই এবং ইউটিউবের ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলো কাজে লাগাচ্ছে সে। প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানের আনন্দটা বুঝতে পারছে বলে ইদানীং তাতে তার আগ্রহ আরও বাড়ছে।
মওদুদ হাসান
দশম শ্রেণি, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল, খুলনা
বড় ভাইয়ের কারণে কম্পিউটার গেম খেলা থেকে প্রোগ্রামিং করতে এসে এর প্রেমে পড়ে গেছে মওদুদ। গত বছরের সাফল্যের পর এবার আরও ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে এগোচ্ছে সে। ইন্টারনেট থেকে সমস্যা দেখে সেগুলো সমাধান করা এবং বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেকে আরও ক্ষুরধার করতে আগ্রহী মওদুদ।
কুইজ প্রতিযোগিতায় এক খুদে প্রতিযোগীতারিকুল ইসলাম
চতুর্থ সেমিস্টার, গোপালগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, গোপালগঞ্জ
অনেক আগে থেকে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ থাকলেও দীর্ঘদিন তেমন এগোতে পারেনি তারিকুল। এমনকি পলিটেকনিকের তৃতীয় সেমিস্টারের প্রোগ্রামিংয়ের কোর্সও তার সহায়ক হয়নি। কিন্তু হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় গেলবার কুইজে অংশগ্রহণ করে এ-সম্পর্কিত বইয়ের খোঁজ পায় এবং তারপর থেকে বই পড়েই তার প্রোগ্রামিং যাত্রা শুরু হয়। অনলাইনে প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন বই পড়া এবং সেখানকার সমস্যাগুলোর সমাধান করাতেই এখন তার বেশি সময় কাটে। তারিকুল এখনো অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সাইটগুলোতে অংশ নেয় না। আটকে গেলে পলিটেকনিকের সিনিয়র ভাই মিজানুর রহমানের সাহায্য নেয়। ভবিষ্যতে প্রোগ্রামিংয়ে নিজের পেশা গড়ার ইচ্ছে আছে তার।
মামনুন সিয়াম
অষ্টম শ্রেণি, ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, চট্টগ্রাম
মাত্র এক মাস আগে প্রোগ্রামিং শিখতে শুরু করেছে সিয়াম এবং কত দ্রুত শিখছে সেটার প্রমাণ পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিযোগিতায়। চারটি সমস্যার সমাধান করে র্যা ঙ্কিংয়ে ছিল সবার শীর্ষে! দুই-তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টার পর যখন একটি প্রোগ্রাম বিচারক প্রোগ্রাম গ্রহণ করে, তখন যে আনন্দ হয় তার কোনো তুলনা হয় না বলে সে জানায়। আনন্দের কারণেই শেখাটা দ্রুত হচ্ছে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে বাংলা বই শেষ করে এখন হার্ভার্ড শিল্ডের বইগুলো পড়ছে সে। সঙ্গে রয়েছে ইন্টারনেট। পদার্থ বা কম্পিউটারবিজ্ঞান যেকোনো একটাতেই সে যেতে পারে।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
দশম শ্রেণি, মডেল সেকেন্ডারি স্কুল, খুলনা
গত বছরই কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের একটা বাংলা বই হাতে পায় আবদুল্লাহ। সেটা দিয়েই শুরু করে প্রোগ্রামিং শেখা। তা দিয়েই এবার পাঁচটি সমস্যার মধ্যে চারটির সমাধান করে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে। প্রোগ্রামিং করতে তার ভালো লাগে।
বাংলা বই ও ইন্টারনেট থেকে শিখেছে বেশির ভাগ খুদে প্রোগ্রামার
দেখা যাচ্ছে দেশের খুদে প্রোগ্রামাররা ভালো শিখছে বাংলা বই থেকে। এ ছাড়া ইউটিউবের বাংলা ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলোও তাদের অনেক কাজে লাগছে। শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং শেখার আরও বাংলা বইয়ের দাবি জানাচ্ছে। তবে, যেভাবেই শিখুক না কেন, এই প্রতিযোগিতা জানান দিচ্ছে তাদের আটকে রাখা কঠিনই হবে।

সূত্র-পিএ


৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিম নিবন্ধন করতে হবে: তারানা হালিম

বিসিএস আইসিটিওয়ার্ল্ড ২০১২


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
কার্ডে ঈদের কেনাকাটায় ব্যাংকের ছাড়
এসপি বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে নিয়ে গেছে পুলিশ
পৌর নির্বাচন নিয়ে মোবাইল অ্যাপ
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির উদ্যোগে সাড়া মেলেনি