সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা, মার্চ ২, ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
ICT NEWS (আইসিটি নিউজ) | Online Newspaper of Bangladesh |
মঙ্গলবার ● ১৭ জুলাই ২০১২
প্রথম পাতা » উম্মুক্ত মঞ্চ » মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে নীতিমালা না মেনেই
প্রথম পাতা » উম্মুক্ত মঞ্চ » মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে নীতিমালা না মেনেই
৭৩২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৭ জুলাই ২০১২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে নীতিমালা না মেনেই

মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে নীতিমালা না মেনেই
।। শেখ শাফায়াত হোসেন ।।নীতিমালায় বলা থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের মোবাইল ফোনসেট। পর্যাপ্ত সার্ভিস সেন্টার বসাচ্ছে না নামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। অন্যদিকে কমদামি সেট বিক্রির ধুম পড়েছে বাজারে। এসব সেটের নিরাপত্তা কোড (আইএমইআই) সঠিক থাকে না। বিক্রয়োত্তর সেবাও নেই।
প্রথম দিকে কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে বৈচিত্র্য এসেছে। ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও অর্থনৈতিক লেনদেনসহ নানা প্রয়োজনে লাগছে যন্ত্রটি। তথ্যপ্রযুক্তির গণজোয়ারে এ যন্ত্রের ব্যবহার হু হু করে বাড়লেও এখনো এর যথাযথ নিরাপত্তা জোরদার হয়নি। হুমকি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্মে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে দুষ্কৃতকারীরা। মোবাইল ফোনসেট বিক্রির নীতিমালা না মানার ফলে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।
রাজধানীর মোবাইল ফোনের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মোবাইল ফোন বিক্রি করছেন অনেক বিক্রেতা। নির্ধারিত পরিবেশক ছাড়া ছোট ছোট দোকানেও আজকাল মোবাইল ফোনসেট বিক্রি করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত সার্ভিস সেন্টারের ব্যবস্থাও নেই অধিকাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের। বিক্রয়োত্তর সেবা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে গ্রাহকদের। বাংলাদেশ মোবাইল আমদানিকারক সমিতির নেতারা জানান, চোরাইপথে (বেগেজ পার্টির) আমদানি করা মোবাইল ফোনসেট বাজারে ঢোকায় সামগ্রিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে। এসব সেটের অধিকাংশেরই আইএমইআই কোড সঠিক নয়। এ কারণে একই কোডের একাধিক ফোন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি-ছিনতাই হওয়া ফোন উদ্ধার বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন সমিতির কোষাদক্ষ এ টি এম মাহাবুব আলম।
বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোনের নিরাপত্তার জন্য আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট ইডেন্টিফিকেশন) কোড ব্যবহৃত করে মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কোডের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর অবস্থান জানা যায়। প্রয়োজনে ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া যায়। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই কোডের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে এই কোড নিয়ে জটিলতা দেখা যাচ্ছে।
আইএমইআই কোডের জটিলতা নিরসনে অপারেটর কম্পানিগুলোকে ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার (ইআইআর) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিটিআরসি। কিন্তু এখন পর্যন্ত অপারেটর কম্পানিগুলো এ যন্ত্রটি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়নি। ইআইআরের ব্যবহার শুরু হলে মোবাইল ফোনের আইএমইআই কোড নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন হবে বলে মনে করছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। মাসতিনেক আগে একটি দামি হ্যান্ডসেট ছিনতাই হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র নাহিদুর রহমানের। এ বিষয় গত ২৭ ডিসেম্বর শাহাবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। স্যামসাং ব্র্যান্ডের গ্যালাক্সি ওয়াই সিরিজের সেটটি ফিরে পেতে জিডির কপি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে ধরনা দেন এই ছাত্র। সেট উদ্ধারের কোনো আশ্বাস না পেয়ে এক রকম নিরাশ হন তিনি। মাসদুয়েক পরে আত্মীয়ের মাধ্যমে এক র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাহিদুর। ওই র‌্যাব কর্মকর্তা তাঁকে মোবাইল ফোনসেটটি উদ্ধার করে দিয়েছেন। পুলিশকে লজ্জা দিতে পরে শাহাবাগ থানায় গিয়ে নিজেই মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার খবর জানিয়ে এসেছেন।
তিক্ত অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে নাহিদুর রহমান বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার বা বন্ধ করার বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তেমন কোনো সহায়ক ভূমিকা নেই; বরং জিডি করতে গিয়ে হয়রানি আর সময় নষ্ট হয় গ্রাহকদের।’ এদিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে পুলিশের কর্মকর্তাদের। একটি অপারেটর কম্পানি ছাড়া অন্য অপারেটরের কাছ থেকে গ্রাহকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাচ্ছেন না বলে জানান পুলিশের সদর দপ্তরের আইসিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা। অন্যদিকে নিম্নমানের মোবাইল ফোনসেট ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, নিম্নমানের হ্যান্ডসেটের স্থায়িত্ব কম, নষ্ট হয় দ্রুত। এসব নষ্ট সেট দেশে ই-বর্জের পরিমাণ বাড়িতে তুলছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হবে বলে তাঁদের ধারণা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক ড. এম কামাল উদ্দিন এমন আশঙ্কার কথাই শোনান। নিম্নমানের মোবাইল ফোনসেট বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরো কড়াকড়ি ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। ড. এম কামাল বলেন, ‘প্রতিটি ইলেকট্রনিকস পণ্যে লিট, মার্কারি, ক্যাডমিয়াম ও এসিডের মতো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। কোনটাতে কম, কোনটাতে বেশি। মোবাইল ফোনে ক্ষতিকর পদার্থের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এর ব্যাটারি খুব শক্তিশালী। এতে এসিডের পরিমাণও বেশি। এ ছাড়া এর থেকে নিঃসৃত হয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু সরাসরি ক্ষতি হয় না বলে বিষয়টি সাধারণের চোখে ধরা পড়ে না।’
১৯৯৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে অগ্রসর মোবাইল ফোন পদ্ধতি বা অ্যাডভান্স মোবাইল ফোন সিস্টেম (এএমপিএস) প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোন চালু করা হয়। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ফোন খাতে প্রতিযোগিতা আনতে এবং সর্বস্তরের গ্রাহকদের কাছে এ সুবিধা পেঁৗছে দিতে আরো তিনটি মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেন। এর পর গত ১৬ বছরে বছরে এ খাতে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। এরই মধ্যে এর গ্রাহকসংখ্যা সাড়ে আট কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
দেশে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের বেতার যন্ত্র (রেডিও ইকুইপমেন্ট) কেনাবেচা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং ডিরেকটরেট। এই বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তাঁদের বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে গ্রাহকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন তিনি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কর্নেল সাজ্জাদ বলেন, এসব বিষয়ে তাঁদের কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে। অবৈধ আমদানি করা সেট উদ্ধারের বিষয়ে একরকম অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের স্পট অ্যাকশনের পণ্য তালিকায় মোবাইল ফোনের উল্লেখ না থাকায় অবৈধ সেট জব্দ করা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। নিজেদের তত্ত্বাবধায়নে অভিযান চালাতে গিয়ে বিটিআরসি কর্মকর্তারা মামলা নিয়ে দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়েছেন। অবৈধ আমদানি রোধে কাস্টমস কর্মকর্তাদের আরো তৎপর হওয়ার বিষয়ে জোর দিয়ে বিটিআরসির এই কর্মকর্তা বলেন, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর বা বিমানবন্দর যে বন্দর দিয়েই মোবাইল ফোন দেশে ঢুকুক না কেন, তার বৈধতা যাচাই করার দায়িত্ব কাস্টমস কর্মকর্তাদের।
আইএমইআই কোডের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে একই আইএমইআই কোডের একাধিক সেট রয়েছে। এসব ফোন ব্যবহারকারী নিজেদের টাকায় ফোন কিনেছেন। হঠাৎ এসব সেট বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে অপারেটর কম্পানিগুলো ইআইআর যন্ত্রটি তাদের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করলে এ সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে অপারেটর কম্পানিগুলোকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



এমডব্লিউসি-এ টেকনোর আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত পণ্য
আসছে নতুন স্মার্টফোন ভিভো ভি৩০
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও শপআপের মধ্যে চুক্তি
টফিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ওরা ৭ জন’
হুয়াওয়ে’র এআই ভিত্তিক আরও ১০ উদ্ভাবন
টিএমজিবির বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন মওকুফ পেয়েছে বিটিআরসি
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগের ফাঁদে হচ্ছে সাইবার অপরাধ: সফোস
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২৪-এ বিটিআরসি চেয়ারম্যানের অংশগ্রহন
বাংলাদেশের বাজারে টেকনো স্পার্ক ২০ প্রো+